― Advertisement ―

বিশ্বজুড়ে রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা: একই দিনে চারটি ভয়াবহ ঘটনা

ডেস্ক রিপোর্টঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সাল। এদিনকে ইতিমধ্যেই বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো দিনের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং নরওয়েতে একই দিনে তিনটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিশ্বের বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে ভয়াবহতম বিমান দুর্ঘটনা

ছবিঃ সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার মুআন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি জেজু এয়ার ফ্লাইট অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে দেয়ালে আঘাত করে। বিমানটি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ফিরছিল। এতে থাকা ১৮১ জন যাত্রীর মধ্যে অন্তত ১৭৭ জন নিহত হয়েছেন।

মাত্র দুইজন ক্রু সদস্য, যারা বিমানের লেজের অংশে ছিলেন, অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। মৃতদের মধ্যে ১৭৩ জন দক্ষিণ কোরিয়ান এবং দুইজন থাই নাগরিক ছিলেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানের সিস্টেমে পাখি আটকে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এখনও সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ এবং আগুনের কালো ধোঁয়া এ দিনটিকে ভয়াবহভাবে চিহ্নিত করেছে।

কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে রানওয়েতে আগুন

ছবিঃ সংগৃহীত

একই দিন রাতে, কানাডার হ্যালিফ্যাক্স বিমানবন্দরে এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার সঠিকভাবে কাজ না করায় এটি রানওয়ে বরাবর ছিটকে পড়ে এবং এর একপাশে আগুন ধরে যায়।

যাত্রী নিকি ভ্যালেন্টাইন জানান, “বিমানটি প্রায় ২০ ডিগ্রি কোণে কাত হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমরা একটি বিকট শব্দ শুনলাম, এবং জানালা দিয়ে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেলাম।”

বিমানটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে দ্রুততার সাথে সকল যাত্রীকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। কোনো প্রাণহানি না হলেও যাত্রীরা মারাত্মক ভীত এবং বিমর্ষ ছিলেন।

নরওয়েতে কেএলএম ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

ছবিঃ সংগৃহীত

এদিন নরওয়ের টর্প স্যান্ডেফজর্ড বিমানবন্দরে কেএলএম এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান জরুরি অবতরণ করে। তবে অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পাশের ঘাসের জমিতে থেমে যায়।

বিমানে ১৮২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা সকলেই প্রাণে বেঁচে যান। তবে কী কারণে বিমানের হাইড্রোলিক সিস্টেম ব্যর্থ হলো, তা তদন্তাধীন।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি: প্রশিক্ষণ বিমানের বিধ্বস্ত

এই মর্মান্তিক দিনের চতুর্থ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জাঝিয়া অ্যাভিয়েশন ক্লাবে। একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলাশয়ে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় পাইলট এবং কো-পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। বিমানটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

ছবিঃ সংগৃহীত

ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে?

একই দিনে চারটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে অতীতে কিছু ভয়াবহ দিন স্মরণীয়:

  • ১৯৭৭ সালের টেনেরিফ দুর্ঘটনা: দুইটি বোয়িং ৭৪৭ বিমানের সংঘর্ষে ৫৮৩ জন নিহত।
  • ১৯৮৫ সালের অ্যারো এয়ার দুর্ঘটনা: কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে একটি ডি-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৫৬ জন নিহত।
  • ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা (২০০১): চারটি বিমান ছিনতাই করে ভয়াবহ হামলা, ৩,০০০ জনের বেশি নিহত।

তবে আজকের ঘটনা ভিন্ন, কারণ একদিনে তিনটি ভিন্ন ভৌগোলিক স্থানে ভিন্ন পরিস্থিতিতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিমান চলাচল নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রশ্ন

আজকের এই ভয়াবহ দিনটি বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দুর্ঘটনার পেছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল বা বাইরের কোনো প্রভাব রয়েছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।

বিমান চলাচলকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আজকের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, আকাশপথের ঝুঁকির বিষয়টি কখনোই পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না।

বিশ্ববাসী আজ নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করছে এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রার্থনা করছে। একই দিনে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনাগুলোর সঠিক কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন তদন্তকারীদের হাতে।

বিএম/সজীব