ডেস্ক রিপোর্টঃ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রশ্নে হাইকোর্টে বহুল আলোচিত রুলের রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করছেন। রায়ের মূল অংশ পাঠ করছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর রায়ের জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ ২৩ কার্যদিবস শুনানি শেষে বেঞ্চটি রায় প্রদানের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিট আবেদনকারী সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া।
বিএনপির পক্ষে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী।
এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এবং চার আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।
২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।
গত ১৯ আগস্ট পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। সুজন সম্পাদকসহ আরও কয়েকজনের রিট আবেদনের ভিত্তিতে এই রুল জারি করা হয়।
এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বৈধতা এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএম/সজীব



