― Advertisement ―

পরমাণু শক্তি চালিত রণতরী: চীনের বিশ্ব নৌ-অধিপত্যের দিগন্ত উন্মোচন

চীন তার সামরিক আধুনিকীকরণে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে, পরমাণু শক্তি চালিত বিমানবাহী রণতরীর জন্য প্রোটোটাইপ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের মাধ্যমে। সিচুয়ান প্রদেশের বেস ৯০৯-এ নির্মিত এই চুল্লি চীনের নৌ শক্তি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের “প্রথম শ্রেণীর নৌবাহিনী” তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। পরমাণু শক্তি চালিত রণতরী অন্যান্য প্রচলিত রণতরীর তুলনায় দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে সক্ষম এবং এটি জ্বালানি বা অস্ত্র ধারণের জন্য বাড়তি স্থানও প্রদান করে।

বিশ্বে বর্তমানে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স পরমাণু শক্তি চালিত রণতরী পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ১১টি এবং ফ্রান্সের একটি পরমাণু রণতরী রয়েছে। চীন সফল হলে এটি হবে তৃতীয় দেশ, যারা এই প্রযুক্তি পরিচালনায় সক্ষম হবে।

পরমাণু শক্তি চালিত রণতরী ব্যবহার চীনের জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনবে, যেমন – অসীম অপারেশনাল পরিসীমা এবং উন্নত প্রযুক্তির জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ। চীনের “ফুজিয়ান” রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম (EMALS) প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্যবহার হচ্ছে, যা অধিক কার্যকর ও কম ক্ষতিকরভাবে বিমান উড্ডয়ন সম্ভব করে।

তবে এই প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জও কম নয়। পরমাণু চালিত রণতরী পরিচালনায় বিশেষায়িত কাঠামো, নিরাপত্তা প্রটোকল, এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উচ্চমানের দক্ষতা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, চীনের এই অগ্রযাত্রা সত্ত্বেও ভারত মহাসাগরে তাদের কৌশলগত সুবিধা সীমিত হতে পারে। ভারতের ভৌগলিক অবস্থান, উন্নত নৌ অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক এই অঞ্চলে তাদের শক্তি ধরে রাখবে।

তবে, প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি এবং দ্বৈত-ব্যবহৃত বাণিজ্যিক বন্দর ব্যবহার করে চীন তার নৌবাহিনীর “দূর সমুদ্র” মিশন সম্প্রসারণ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটি ও জোটের অভাবে চীনের ক্ষমতা এখনও সীমিত।

চীনের এই পরমাণু রণতরী প্রকল্প কেবল সামরিক ক্ষমতা নয়, বরং বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে তাদের অবস্থান সুসংহত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।