বরিশাল মেইল ডেস্ক:
হান্সি ফ্লিকের ছোঁয়ায় যেন একেবারেই বদলে গেছে বার্সেলোনা। সেভিয়া, বায়ার্ন মিউনিখের পর রিয়াল মাদ্রিদ, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন একের পর এক গোলে তাদের পরাস্ত করে চলেছে দলটি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ধরাশায়ী হলো নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওল।
লা লিগায় রবিবার (৩ নভেম্বর) কাতালুনিয়া ডার্বিতে এস্পানিওলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। ফলে লিগে ১২ ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের জালে মোট ৪০ বার বল পাঠাল কাতালান জায়ান্টরা। এই সময়ে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ১১টি। লিগের প্রথম ১২ ম্যাচে গোলসংখ্যায় এটি ক্লাবটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
১৯৫০-৫১ মৌসুমের প্রথম ১২ ম্যাচে রেকর্ড ৪২ গোল করেছিল বার্সেলোনা, যা আজও অতিক্রম করতে পারেনি ক্লাবটি।
এ দিন দানি অলমোর জোড়া গোলের পাশাপাশি বার্সেলোনার অপর গোলটি করেন রাফিনিয়া। আর অফসাইডের কারণে বারবার হতাশ হওয়া এস্পানিওলের একমাত্র গোলটি আসে হাভি পুয়াদোর পা থেকে।
ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটেই দানি অলমোর গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। তার আগে দুবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় ঠিকানা খুঁজে নেন ফলস নাইনে খেলা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
ডান পাশে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে সতীর্থের লং পাস ধরে বাঁ পায়ের পাতা দিয়ে বক্সের মধ্যে মধ্যে দর্শনীয় এক ক্রস দেন লামিন ইয়ামাল, আর তা প্রথম ছোঁয়াতেই লক্ষ্যে পাঠিয়ে দেন অলমো। ২৪তম মিনিটে কাসাদো-রাফিনিয়া যুগলবন্দীতে ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ এক লং পাসে এস্পানিওলের বক্সের মধ্যে বল পাঠিয়ে দেন কাসাদো, ছুটে গিয়ে পায়ের ছোঁয়ায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন রাফিনিয়া।
এই গোলে লা লিগা ১২ ম্যাচে ৭ গোল করলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, চলতি মৌসুমে লিগে যা এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। পাশাপাশি ৬টি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার নামের পাশে, অ্যাসিস্টের তালিকায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ ম্যাচে ২০ গোলে অবদান রাখলেন এই ব্রাজিলীয় (১১ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট)।
এর তিন মিনিট পরই অবশ্য একটি গোল পরিশোধ করে এস্পানিওল, তবে অফসাইডে গোলটি কাটা পড়লে হতাশ হয় তারা। এরপর ৩১তম মিনিটে তাদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তৃতীয় গোলটি পেয়ে যায় বার্সেলোনা। আলেহান্দ্রো বালদের কাছ থেকে পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট শটে এস্পানিওল গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন অলমো। এই গোলে বার্সেলোনার জার্সিতে লিগে পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচটি গোল করলেন ২৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
ছয় মিনিট পর লেভানডোভস্কির একটি জোরালো শট লাফিয়ে উঠে কোনোমতে প্রতিহত করেন হুয়ান গার্সিয়া। ৪২তম মিনিটে গোলমুখ থেকে বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হয়ে আরও একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন পেদ্রি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর আরও একটি গোল পায় এস্পানিওল। ৫৮তম মিনিটে ওই গোলটিও কাটা পড়ে অফসাইডে। ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, গেম ডেভেলপমেন্টের সময় যখন বল রিসিভ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন অফসাইডে ছিলেন হোফ্রে কারেরাস।
দুই মিনিট পর চকিতে এক আক্রমণে উঠে গোল পেয়েই গিয়েছিলেন এস্পানিওলের হাভি পুয়াদো, তবে অসাধারণ দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেন ইনিয়াকি পেনিয়া। অবশ্য ৬৩তম মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি সফরকারীদের। বার্সেলোনার অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দূরের পোস্টের দিকে নিচু ক্রস বাড়ান কার্লস রোমেরো। তা থেকে দলকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন পুয়াদো।
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে লেভানডোভস্কির একটি শট ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন গার্সিয়া। তিন মিনিট পর লামিনের শটও ঠেকান তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে গোল পান আনসু ফাতি, তবে অফসাইডে গোলটি বাতিল হলে স্কোরলাইন ৩-১ রেখেই শেষ হয় ম্যাচ।
প্রথমার্ধে দাপুটে ফুটবল খেললেও ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মার্ক কাসাদো ও দানি অলমোকে উঠিয়ে যথাক্রমে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও ফেরমিন লোপেসকে নামান ফ্লিক। এরপর থেকেই বদলে যায় বার্সেলোনার খেলার ধরণ। নিজেদের মধ্যে সংযোগের ব্যাপক অভাব লক্ষ্য করা যায় তাদের মধ্যে, ফলে আক্রমণে ধার হারায় তারা। এ কারণে দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে নিজেদের ছায়া হলে ছিল দলটি।
এই জয়ে লিগে ১২ ম্যাচের ১১টিই জিতে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান সুসংহত করল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা্। গত ম্যাচে বার্সার কাছেই এল ক্লাসিকোতে ৪-০ গোলে হারা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ২৪। ৯ পয়েন্ট পেছনে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে। ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে প্রবল বন্যার কারণে ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে তাদের এ সপ্তাহের ম্যাচটি স্থগিত হয়েছে।
লা লিগায় আগামী রবিবার রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনা। তার আগে বুধবার রেড স্টার বেলগ্রেদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে সার্বিয়া যাবে দলটি।



