ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়ার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির আশায় ইরান ধৈর্য ধরলেও ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমাদও বৈঠকে ইরানের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন, বিশ্বব্যাপী বৈষম্যমূলক শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।
বরিশাল মেইল ডেস্ক:
রাশিয়ার কাজান শহরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ইরানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই ইসরাইল হামাস নেতা ইসরাইল হানিয়াকে হত্যা করে, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই হত্যাকাণ্ড তেল আবিবের আগ্রাসী পরিকল্পনারই অংশ। যদিও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য ইরান ধৈর্য ধরেছিল, ইসরাইলের লাগাতার আগ্রাসন এবং লেবাননেও এ আগ্রাসন বিস্তৃত করার কারণে তেহরান বাধ্য হয় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতাই ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত থাকার মূল কারণ।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য কঠিন জবাব দেওয়া হবে। ইরান কোনোভাবেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সহিংসতার বিস্তার চায় না, বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতিটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। তবে ইসরাইলের উদ্দেশ্য হলো পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা এবং যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দেওয়া। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ইসরাইলের আগ্রাসনকে সীমিত করতে ব্যবস্থা নেয়।
বৈঠকে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমাদ ইরানকে শক্তিশালী ও স্বাধীন দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইরানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার দেশ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী যে এককেন্দ্রীকরণমূলক শাসনব্যবস্থা চলছে, তা অন্যায় এবং বৈষম্যমূলক। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই অন্যায় ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার জন্য ব্রিকস একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
বৈঠকটি ইরান ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে উভয় দেশের মতাদর্শগত মিলের একটি প্রতিফলন হিসেবে চিহ্নিত হয়।



