― Advertisement ―

এবার ঢামেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

বরিশাল মেইল ডেস্কঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) একাডেমিক কাউন্সিলে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ তদন্ত...

কন্যা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াবেন যেভাবে

বরিশাল মেইল ডেস্ক

আমাদের সমাজ আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেলেও, অনেকাংশে আধুনিক হলেও এখনও ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে বৈষম্য দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বৈষম্য পরিবার থেকেই শুরু হয় বিধায় মেয়ে শিশুটি জন্মের পর থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠার পরিবেশ পায় না।

ছেলে শিশুর মত কন্যা শিশুরাও সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাদের সঠিক যত্ন, শিক্ষা এবং দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তারা হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাসী এবং ক্ষমতাবান। এক আত্মবিশ্বাসী কন্যা শিশু কেবল নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে সক্ষম নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পরিবার এবং শিক্ষকদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব নিতে শেখান
আত্মবিশ্বাস একদম ছোটবেলা থেকেই তৈরি করতে হয় বলে জানান মনোবিজ্ঞানীরা। বাবা-মা শিশুর তার সাথে ছোটবেলা থেকে যে আচরণ করবে তার উপর নির্ভর করে শিশু আত্মবিশ্বাসী হবে কি হবে না। ছোট বেলা থেকেই কন্যা শিশুর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তাকে কথা বলতে দিতে হবে। তার নেয়া সিদ্ধান্তে নেতিবাচক কথা বলা উচিত হবে না।

তার মতামতের গুরুত্ব দিন
আপনার কন্যাকে কেবলই শিশু ভেবে তার চিন্তাভাবনা বা ধারণাগুলোকে অবমূল্যায়ন করবেন না। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার মতামত এবং দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান। কন্যা শিশুর পছন্দ এবং ক্ষমতাকে সম্মান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দিন, যাতে সে বুঝতে পারে যে তার মতামতও মূল্যবান। পছন্দের অধিকার ও স্বতন্ত্র মতামত গড়ে তোলার সুযোগ তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করবে।

আটকে রাখার চেষ্টা করবেন না
কখনও মেয়েকে বলবেন না ঘরের কাজেও বাড়তি মনযোগ দিতে হবে। ঘরের কাজের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় স্বপ্ন দেখাতে শেখান। আপনাকে দেখে ঠিকেই সে ঘরের কাজ শিখতে পারবে, তাতে বাঁধা নেই। তবে কেউ যেন তাকে না বলে রান্না করাই মেয়েদের কাজ। তুমি পারবে না, এসব না বলে বরং তার কোন সফলতাকে প্রশংসা করা ও পুরস্কৃত করা উচিৎ। কোন কিছুতে ভাল না করলেও সেজন্য বকা না দিয়ে সে যে চেষ্টা করছে তার জন্যেও তাকে প্রশংসা করা উচিৎ।

ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করুন
জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে, কিন্তু কিভাবে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হয় তা শেখানো দরকার। শিশুকে ব্যর্থতার জন্য তিরস্কার না করে তাকে দেখান, কীভাবে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এটি তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করবে।

সৃজনশীলতার চর্চা করান
কন্যা শিশুকে সৃজনশীল হতে দিন। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, নাচ শেখা বা যে কোনো ধরনের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা দরকার। সৃজনশীলতার মাধ্যমে সে নিজের দক্ষতা প্রকাশ করতে পারবে এবং এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

লিঙ্গভেদমূলক মানসিকতা থেকে দূরে রাখুন
অনেক সময় সমাজে মেয়েদের কাজ এবং দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মানসিকতা তৈরি হয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। কন্যা শিশুকে শেখান যে সে যা করতে চায়, সেটাই সঠিক। লিঙ্গভেদের ভিত্তিতে কোনো কাজের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। এটি তাকে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্বিত হতে শিখাবে।

সাহসী হতে শেখান
আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আপনার কন্যাকে নির্ভীক হতে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ভয়কে জয় করার মন্ত্রও শেখাতে হবে কন্যাশিশুকে। সবকিছুতে ভয় পেতে থাকলে তা আপনার কন্যার বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ভয়কে জয় করা শিখে গেলে কষ্ট এবং ব্যর্থতার সময়ও, তার আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি থাকবে।