বগুড়ায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণার জেরে রাহুল যাদব (৩২) নামের এক তরুণ ব্যবসায়ী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রীর পরকীয়া এবং আট বছরের সন্তানকে রেখে অন্য একজনকে বিয়ে করার ঘটনা মেনে নিতে না পেরে রাহুল এই চরম পথ বেছে নেন বলে জানা গেছে। তিনি শহরের নামাজগড় ডালপট্টি এলাকার নিরঞ্জন গোয়ালার একমাত্র পুত্র এবং পেশায় ডাল আমদানিকারক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাহুলের স্ত্রী বেশ কিছুকাল ধরে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি তাঁদের কন্যাসন্তানকে ফেলে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধেন। এই ঘটনার পর থেকেই রাহুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং চরম একাকীত্বে ভুগছিলেন। আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন, যেখানে তাঁর জীবনের বিড়ম্বনা ও বিষণ্ণতার ইঙ্গিত ছিল।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে রাহুল নিজ বাড়িতে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে রাহুলের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এটি আবারও প্রমাণ করল যে, পারিবারিক বিচ্ছেদ ও মানসিক বিষণ্ণতা একজন মানুষের জীবনে কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।



