পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাত দিনের সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। ঈদ উদযাপনে দেশবাসীর যাতায়াত ও প্রস্তুতি সহজতর করতে সরকার এই দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ছুটির এই নতুন তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ২৩ মে (শনিবার) সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও এদিন সব অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ঈদের দীর্ঘ ছুটি শুরুর আগে কাজের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ২৩ মের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ২৪ মে (রবিবার) হবে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবস। মূলত কর্মদিবস সমন্বয় করতেই সরকার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস চালু রাখার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জরুরি পরিষেবাসমূহকে এই সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। জনসাধারণের জানমাল ও নাগরিক সুবিধা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা সেবা চালু থাকবে। এ ছাড়া টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক বিভাগ এবং হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা এই ছুটির সময় বিরতিহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকরা কোনো ভোগান্তির শিকার হবেন না বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং এবং বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা আসার কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য এবং সুপ্রিম কোর্ট আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের সাধারণ ছুটি কার্যকর করার লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা নির্দেশনা জারি করা হবে। দীর্ঘ এই ছুটির ফলে উৎসবের আমেজে দেশবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



