দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবিরাম ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় প্রাক-মৌসুমি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। ইতোমধ্যে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী ও মগরা এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা হবিগঞ্জে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করবে এবং মৌলভীবাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই আকস্মিক পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া ভোলায় ১৫১ এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে, যার ফলে শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওর অঞ্চলের ফসল রক্ষা বাঁধ এবং নিম্নাঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল ও অতিভারী বর্ষণ একসাথে হওয়ায় এবার প্রাক-মৌসুমি বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা হাওরের কৃষির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।



