― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

৩০ এপ্রিলের পর সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান; সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এক নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বর্তমান অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পরপরই সারাদেশে মাদক, প্রথাগত জুয়া এবং ক্রমবর্ধমান অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে একযোগে সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে জুরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই অভিযানে অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ এবং মাদক স্পটগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মদদে গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় এসব অবৈধ ব্যবসা ডালপালা মেলেছিল। বর্তমান সরকার সেসব অপতৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, ইতোমধ্যে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও সরঞ্জাম জব্দ করেছে এবং অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অভিযানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতার ন্যূনতম প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা নজরদারি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অপরাধীরা ঠিকানা পরিবর্তন করে বা ছদ্মবেশে তাঁদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে না পারে। ঢাকার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই বিশেষ অভিযান সমানতালে পরিচালিত হবে।

সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স যাচাইসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সিসা বার বা মাদকের আড্ডার ছদ্মবেশে থাকা যেকোনো আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থে এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এই অভিযানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই সুসমন্বিত অভিযানে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিসহ সকল বাহিনী অংশ নেবে বলে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।