― Advertisement ―

শেহবাজ-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ; মধ্যস্থতায় ‘সৎ ও আন্তরিক’ থাকার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অস্থির আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংলাপে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত প্রায় ৫০ মিনিটের এই দীর্ঘ ফোনালাপে দুই নেতা অঞ্চলের চলমান সংকট নিরসন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফোনালাপের সময় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তান এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি “সৎ ও আন্তরিক” মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আসন্ন ইসলামাবাদ সফরের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আরাগচির এই সফরকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা সফল করতে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই শীর্ষ নেতা কেবল আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা ছাড়া এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাকিস্তান ও ইরান—উভয় দেশই যুদ্ধের বিস্তার রোধ এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেহবাজ শরিফ ও পেজেশকিয়ানের এই সংলাপ মূলত একটি বৃহৎ কূটনৈতিক মিশনের অংশ। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক শক্তির মেরুকরণের এই সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। ফোনালাপের মাধ্যমে দুই দেশই এই বার্তা দিয়েছে যে, তারা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা কমাতে একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকগুলো এই আলোচনার ফলাফলকে আরও স্পষ্ট করবে।