― Advertisement ―

ব্রেক-থ্রু নাকি অনিশ্চয়তা? ইসলামাবাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝেও কাটছে না ধোঁয়াশা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানী ইসলামাবাদের প্রধান সড়কগুলো ও ভিভিআইপি এলাকাগুলোতে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সাধারণ জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ১৯ এপ্রিল থেকেই রাজধানী এবং নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার ফলে তৈরি হওয়া তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ, যা নাগরিকদের প্রাত্যহিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে রেড জোন এবং কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়ির মধ্যেও আলোচনার চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো এক ধরনের অস্পষ্টতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক মতপার্থক্যগুলো এই ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠক শুরুর পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদে এই সম্ভাব্য বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই এই দুই পরাশক্তির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু আলোচনার এজেন্ডা এবং শর্তাবলী নিয়ে এখনো কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও আলোচনাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সংশয় দানা বাঁধছে। এরই মধ্যে ইসলামাবাদের স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান এবং যান চলাচলের স্বাভাবিকতা দাবি করছেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যেকোনো মুহূর্তে শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে বিধায় এই আগাম সতর্কতা। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় জনমনে এক ধরনের ‘ধোঁয়াশা’ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে, কারণ এই বৈঠকের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। আপাতত কড়া নিরাপত্তা আর স্থবির ট্রাফিকের মাঝেই বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে এক সম্ভাব্য কূটনৈতিক ব্রেক-থ্রু’র প্রত্যাশায়।