― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ঝালকাঠিতে ফসলি জমিতে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রতিবাদ

ঝালকাঠিতে তিন ফসলি জমিতে পৌরসভার বর্জ্য ফেলার ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের চামটা ও কুনিহারী এলাকায় কয়েক শতাধিক কৃষক ও সাধারণ মানুষ এক বিশাল মানববন্ধনে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই পৌর প্রশাসন এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে জমি তাদের অন্ন জোগায়, সেই ফসলি জমি রক্ষায় তারা জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করবেন না।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পৌর এলাকার ভেতরে ডাম্পিং স্টেশনের জন্য উপযুক্ত সরকারি জায়গা থাকা সত্ত্বেও জনবসতিপূর্ণ ফসলি জমিতে বর্জ্য ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে কেবল পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে না, বরং চামটা, দারখী, ডোমজুড়ি ও কুনিহারীসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ধসে পড়বে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কৃষক প্রতিনিধিরা পৌর প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন। অনেক কৃষককে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জমিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং তাদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন। স্থানীয়দের আবেগ ও জীবিকার অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জনস্বার্থ বিরোধী কোনো প্রকল্প এখানে বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্যের এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংসদ সদস্য ইলেন ভুট্টো স্পষ্ট করে জানান, যেহেতু এলাকাবাসী এই স্থানে ডাম্পিং স্টেশন চান না, তাই বিকল্প জায়গা খোঁজা হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে কৃষকদের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ঝালকাঠির এই আন্দোলন আবারও প্রমাণ করল যে, প্রাণপ্রকৃতি ও ফসলি জমি রক্ষার প্রশ্নে প্রান্তিক কৃষকরা কতটা আপসহীন। প্রশাসনের এই নমনীয় মনোভাব আপাতত উত্তেজনা প্রশমিত করলেও স্থায়ী সমাধানের দিকে তাকিয়ে আছেন বাসন্ডা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।