দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিরাজমান চরম অস্থিরতা নিরসনে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা করেন যে, গ্রামীণ জনপদের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমাতে এখন থেকে রাজধানী ঢাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, শহরের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ভোগ করবে আর গ্রামের মানুষ অন্ধকারের কষ্টে থাকবে—এমন বৈষম্য একটি আধুনিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়। মূলত কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ‘বৈষম্যহীন’ বাংলাদেশের চেতনা বাস্তবায়ন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট কোনো সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনার ফল। তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, নথিপত্রে উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেশি দেখানো হলেও বাস্তবে জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফসলের এই মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনেই রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে চাহিদার একটি বড় অংশ অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, প্রয়োজনীয় অর্থ থাকলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামো বা টার্মিনাল না থাকায় এই মুহূর্তে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনায় এই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই ঢাকা শহরে পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই একটি সাহসী ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে শপথের মর্যাদা এবং সংসদীয় স্বচ্ছতা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজধানী ও মফস্বলের মধ্যে বিদ্যমান এই বিদ্যুৎ বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ঢাকার মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও তা জাতীয় স্বার্থে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।



