― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সংসদে প্রধানমন্ত্রী: পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া জোরালো

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিশাল অংকের অর্থের হিসাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার এক সংসদীয় অধিবেশনে তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে অবৈধভাবে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে পাচার হওয়া অর্থের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যারা বর্তমানে ১১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে উল্লেখ করেন যে, এই ১১টি মামলার তালিকায় দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান। সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো এবং বসুন্ধরার মতো বড় বড় গ্রুপের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পাচার করা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধ এই অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই তিনটি দেশের পক্ষ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করার সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি সাতটি প্রধান গন্তব্য দেশের সাথেও দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই অর্থ পাচারের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।

সরকারের এই উদ্যোগ কেবল অর্থ উদ্ধারই নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন কেউ এভাবে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করতে না পারে, তার জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দেশীয় সংস্থাগুলোর সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে এই জটিল আইনি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা অর্থপাচার রোধে বর্তমান প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সাধারণ জনগণের মাঝে হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার নতুন আশার সঞ্চার করেছে।