― Advertisement ―

লোকে জানল, তিনি ব্র্যাড পিটের প্রেমিকা

প্রেমিকাকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা শুরু করেছেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট। এতদিন তার গোপন প্রেম নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ফিসফাস, সেসব বন্ধ করে দিলেন এই...

৯২ বছরে স্তব্ধ হলো আশা ভোঁসলের জাদুকরী কণ্ঠ

ভারতীয় সংগীতের আকাশে আজ এক বিশাল নক্ষত্রের পতন হলো। বলিউড তথা বিশ্ব সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুতে কেবল একটি কণ্ঠ স্তব্ধ হয়নি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

আশা ভোঁসলের সংগীত জীবন ছিল আট দশকের দীর্ঘ এক মহাকাব্য। ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝা বল’-এ প্রথম কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হলো প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি গানের এক বিশাল ভাণ্ডার রেখে। রোমান্টিক ব্যালাড থেকে শুরু করে চটুল ক্যাবারে, গজল কিংবা ভজন—সংগীতের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেননি। পর্দায় অভিনেত্রীরা যখন তাঁর গানে ঠোঁট মেলাতেন, মনে হতো কণ্ঠটি যেন তাঁদের নিজস্ব।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “ভারত আজ তার অন্যতম আইকনিক এবং বহুমুখী কণ্ঠকে হারাল।” মোদীর মতে, আশাজীর অসাধারণ সংগীত যাত্রা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

আশা ভোঁসলের ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়া। লতা যখন ধ্রুপদী আভিজাত্য ও গাম্ভীর্যের প্রতীক ছিলেন, আশা তখন বেছে নিয়েছিলেন এক সাহসী ও গতিশীল পথ। তিনি নিজেকে ভাঙতে জানতেন। সত্তর ও আশির দশকে আর ডি বর্মণের (পঞ্চম) সাথে তাঁর জুটি বলিউড সংগীতের রূপরেখা বদলে দিয়েছিল। ‘দম মারো দম’ বা ‘পিয়া তু আব তো আজা’র মতো গানগুলো আজও তরুণ প্রজন্মকে নাচাল।

ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন এই শিল্পী। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে গণপতরাও ভোঁসলের সাথে পালিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে তিন সন্তানসহ একা জীবন সংগ্রামের গল্প অনুপ্রেরণার মতো। ১৯৬০ সালে স্বামীর ঘর ছাড়ার পর তিনি যখন একা, তখন সংগীতই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। ১৯৮০ সালে তিনি আর ডি বর্মণকে বিয়ে করেন, কিন্তু ১৯৯৪ সালে পঞ্চমের অকাল মৃত্যু তাঁকে আবারও একা করে দেয়।

আশা ভোঁসলে কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘কর্নারশপ’ তাঁকে উৎসর্গ করে গেয়েছিল ‘ব্রিমফুল অফ আশা’। এছাড়া বয় জর্জ এবং সর্বশেষ ভার্চুয়াল ব্যান্ড ‘গরিলাজ’-এর সাথে তাঁর কাজ প্রমাণ করে যে বয়স তাঁর কাছে কেবল একটি সংখ্যা ছিল। নব্বই বছর বয়সেও দুবাইতে দাঁড়িয়ে তিন ঘণ্টা গান গেয়ে তিনি দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন।

সংগীত পরিচালক শঙ্কর মহাদেবন আক্ষেপ করে বলেছেন, “আজ প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয় ভেঙে গেছে।” হেমা মালিনী তাঁর ব্যক্তিগত আবেগের কথা স্মরণ করে জানিয়েছেন যে, আশাজীর অনন্য কণ্ঠই তাঁর বহু গানকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। এই শোক কেবল সংগীতপ্রেমীদের নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আশা ভোঁসলে প্রযুক্তির সাথেও নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। নাতনি জানাইয়ের উৎসাহে তিনি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন এবং রিয়েলিটি শো ‘আশা কি আশা’র মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। সংগীতকে তিনি নিজের নিঃশ্বাস মনে করতেন। তাঁর জীবনের শেষ রেকর্ডিংগুলোর একটি ‘দ্য শ্যাডোয়ি লাইট’ গানের গীত যেন আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতা হয়ে দেখা দিল, যেখানে আত্মাকে অজানা পথে যাওয়ার পথ দেখাচ্ছেন এক মাঝি।

পরিশেষে বলা যায়, আশা ভোঁসলে শারীরিকভাবে চলে গেলেও তাঁর কণ্ঠস্বর ভারতের অলিতে-গলিতে, মানুষের সুখে-দুখে ও উৎসবে চিরকাল প্রতিধ্বনিত হবে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠিন সময় আসলেও সংগীতের সাধনা থাকলে টিকে থাকা সম্ভব। ভারতের মাটির এই অনন্য সুরসুধা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে তিনি হয়ে রইলেন এক অমর নক্ষত্র।