ইরানের মাটিতে ভূপাতিত এফ-১৫ই ইগল স্ট্রাইক যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু উদ্ধারে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পরিচালিত অভিযান নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে তেহরান। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘দুর্ধর্ষ ও সফল’ বলে দাবি করলেও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে দেখছে ভিন্ন চোখে। তেহরানের দাবি, নিখোঁজ বিমানসেনা উদ্ধারের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরি’ করতে এসেছিল। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।
ইসমাইল বাকাইয়ের মতে, মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে কোহগিলুয়ে ও বয়ের-আহমদ প্রদেশের যে এলাকায় নামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সেখান থেকে নিখোঁজ পাইলটের অবস্থানের দূরত্ব অনেক বেশি। ভৌগোলিক এই অসংগতি থেকেই তেহরান ধারণা করছে, উদ্ধার অভিযানটি ছিল কেবল একটি ‘আইওয়াশ’ বা প্রতারণামূলক আবরণ। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতিয়ে নেওয়া। ইরানের সামরিক বাহিনী এই অভিযানকে ‘ব্যর্থ ও পলায়নপর’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মূলত একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল।
গত শুক্রবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মার্কিন ওই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার পর থেকেই শুরু হয় টানাপোড়েন। বিমানের পাইলট দ্রুত উদ্ধার হলেও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নিখোঁজ ছিলেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। তবে ইরানের দাবি, অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর আক্রমণে কয়েকটি মার্কিন বিমান ইসফাহান প্রদেশে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। নিজেদের প্রযুক্তি যেন ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে নিজেরাই সেই বিমানগুলোর ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেয়।
তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, এই পুরো অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সামরিক বিপর্যয় ছাড়া আর কিছু নয়। ট্রাম্পের ‘সফল’ দাবির বিপরীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে গল্পের আশ্রয় নিচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এই অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ ইউরেনিয়াম চুরির মতো অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরমাণু কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।



