ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়াবহ আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) শনিবার এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় কেন্দ্রটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে আইএইএ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা সরাসরি আঘাতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আইএইএ তাদের দাপ্তরিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশ করেছে যে, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড অভিঘাতে কেন্দ্রের সীমানার ভেতরে অবস্থিত একটি ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রশমিত করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মাত্রায় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়নি। অর্থাৎ, পারমাণবিক চুল্লি বা মূল জ্বালানি ব্যবস্থা এখনো নিরাপদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হামলার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। স্থাপনাটির সংবেদনশীল অংশগুলো অক্ষত রয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম আগের মতোই স্বাভাবিক গতিতে চলছে। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যকে হারানোর ঘটনায় কেন্দ্রজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তবুও বড় ধরনের কোনো পারমাণবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে স্থাপনাটি রক্ষা পেয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পারমাণবিক কেন্দ্রের এত কাছে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনার সন্নিকটে এ ধরনের সামরিক তৎপরতা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পরিবেশগত ও মানবিক সংকটের কারণ হতে পারে। বর্তমানে আইএইএ এবং ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



