মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। যুদ্ধের ষষ্ঠ সপ্তাহে এসে বড় ধরনের ধাক্কা খেল মার্কিন বিমান বাহিনী। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের আকাশসীমায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর একজন নিখোঁজ পাইলটকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরানি বাহিনী। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকাশপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের যে দাবি করেছিলেন, তা বাস্তবে চরম ঝুঁকির মুখে। এই ঘটনা ওয়াশিংটনের জন্য এক নতুন সংকট তৈরি করেছে, কারণ একজন জীবিত মার্কিন সেনাসদস্য ইরানি ভূখণ্ডে আটকা পড়া মানেই হোয়াইট হাউসের জন্য বিশাল কূটনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নিখুঁত আঘাতে একটি দুই আসনের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া একটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কুয়েতে আছড়ে পড়েছে। নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যাওয়া দুটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানি গোলন্দাজ বাহিনীর মুখে পড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইরান। স্থানীয় গভর্নর ঘোষণা দিয়েছেন, শত্রুপক্ষের কাউকে জীবিত বা মৃত ধরতে পারলে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে টিপ্পনি কেটে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মিশন এখন শাসন পরিবর্তন থেকে পাইলট খোঁজার অভিযানে নেমে এসেছে।”
এদিকে হোয়াইট হাউসে বসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। কূটনৈতিক টেবিলেও অচলাবস্থা কাটছে না; পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে বসার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন লেবানন থেকে কুয়েত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার ইরান কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানোর পর ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, “আসল হামলা তো এখনো শুরুই হয়নি, সামনে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে; মাত্র একদিনেই মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ শতাংশ বেড়ে গেছে। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগার এবং বুশেহরের ত্রাণ গুদামে ড্রোন হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে নিখোঁজ পাইলটকে নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে তেলের আকাশচুম্বী দাম—সব মিলিয়ে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ব।



