― Advertisement ―

হরমুজ প্রণালী সচল করতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব; ইরান যুদ্ধে জড়াবে না লন্ডন

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় সচল করতে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানান। তবে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দিলেও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান কোনো সরাসরি সামরিক যুদ্ধে ব্রিটেন অংশ নেবে না।

স্টারমার তাঁর বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। ব্রিটিশ জনগণের স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো অর্থহীন সংঘাতে আমরা জড়াব না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের পরোক্ষ চাপ থাকলেও স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী চলবে। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম না হওয়ার এই ঘোষণা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রণালীটি সচল রাখতে চলতি সপ্তাহেই বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। স্টারমার মনে করেন, একক কোনো দেশের খবরদারির চেয়ে আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে স্টারমার ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ এবং ইউরোপীয় সংহতির পথ বেছে নিয়েছেন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকা মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামা। স্টারমার এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজলেও ওয়াশিংটনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এক সাহসী বার্তা দিয়েছেন।