মিয়ানমারের দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৫৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নিুরুল আমিন শাহ আলম। কিন্তু ২০২৪ সালে দেশটিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের কনকনে ঠান্ডায় রাস্তায় প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে। সম্প্রতি ইরি কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারস অফিস এই মৃত্যুকে ‘হোমিসাইড’ বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছে। হাইপোথার্মিয়া (অতিরিক্ত ঠান্ডা), পানিশূন্যতা এবং আলসারের জটিলতা তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার মানবিকতা ও বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক অমানবিক অবহেলার চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, অসুস্থ শাহ আলমকে মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা একটি বন্ধ রেস্টুরেন্টের সামনে ফেলে রেখে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জীবন বাঁচাতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে তিনি একা হাঁটছেন, যা পরে তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বর্ডার প্যাট্রোল দাবি করেছে যে তিনি সুস্থ ছিলেন এবং তাঁকে নিরাপদ স্থানেই নামানো হয়েছিল, কিন্তু বাফেলোর সেই শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় একজন অসুস্থ মানুষকে খোলা জায়গায় রেখে আসার যৌক্তিকতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা। গভর্নর ক্যাথি হোকুল একে ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ইতিমধ্যে ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। ইরি কাউন্টির নির্বাহী মার্ক পোলনকার্জ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য ছিল না এবং এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি চরম নিদর্শন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শাহ আলম মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে শান্তির খোঁজে আমেরিকা এসেছিলেন, কিন্তু নিয়তির পরিহাসে তাঁকে মরতে হলো চরম অবহেলায়।
বর্তমানে নিুরুল আমিন শাহ আলমের মৃত্যু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মার্কিন সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ‘ড্রপ-অফ’ প্রোটোকলের একটি বড় ত্রুটি হিসেবে সামনে এসেছে। তদন্তাধীন এই মামলাটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে অভিবাসীদের অধিকার ও জীবন সুরক্ষার প্রশ্নে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি পরিবারের শেষ সম্বল এই মানুষটির করুণ পরিণতি এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।



