― Advertisement ―

‘সন্ত্রাসী শাসন গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে’: ইরানে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁদের সামরিক অভিযান এখনই থামছে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘সন্ত্রাসী শাসন’ হিসেবে অভিহিত করে তা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘পাসওভার’-এর প্রাক্কালে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চিরচেনা মানচিত্র ও সমীকরণ বদলে গেছে। নেতানিয়াহুর মতে, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল এখন একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘আঞ্চলিক শক্তি’ হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে।

ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের এই মিশন এখনও শেষ হয়নি। আমরা লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর এবং আমাদের কার্যক্রম চলতেই থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য ছিল এবং ইসরায়েল তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন লেবানন ও সিরিয়াসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহ ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা তীব্রতর হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এই ‘চেহারা বদলে দেওয়া’র দাবি মূলত ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক বড় ধরনের হামলাগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করে। তিনি মনে করেন, তেহরানের প্রভাব খর্ব করার মাধ্যমেই কেবল ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে এই আগ্রাসী মনোভাব আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এর ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাসওভার উৎসবের আগে দেওয়া এই ভাষণটি মূলত ইসরায়েলি নাগরিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং বিশ্বনেতাদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল। একদিকে লেবাননে হামলায় প্রাণহানি বাড়ছে, অন্যদিকে তেহরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।