ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর অবশেষে প্রাণ হারালেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার প্রভাবশালী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) আইআরজিসির নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ’ এক শোকবার্তায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তদারকি করার সময় তিনি ইসরায়েলি হামলার শিকার হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর চলমান এই যুদ্ধে তাংসিরি হলেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, যাঁর মৃত্যু তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের ফাটল ধরাল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত বৃহস্পতিবারই তাংসিরিকে হত্যার দাবি করেছিলেন। তাঁর মতে, তাংসিরি ছিলেন হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা রুদ্ধ করার মূল কারিগর। যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণকালে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। তাংসিরির নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে ইরানি নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছিল এবং পারস্য উপসাগরে বিদেশি জাহাজ জব্দ করার মতো দুঃসাহসিক অভিযানে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ এই যোদ্ধা ২০১৮ সালে খামেনি কর্তৃক নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাঁকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। গার্ডের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাংসিরি নিহত হওয়ার সময় শত্রু দমনে উপকূলীয় ফ্রন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাহিনীটি অঙ্গীকার করেছে যে, “শত্রুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনি এবং লারিজানির পর তাংসিরির মৃত্যু ইরানের নিরাপত্তা বলয়ে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। যদিও তেহরান দাবি করছে যে তাদের সামরিক কাঠামো যেকোনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম, তবে একের পর এক শীর্ষ নেতার পতন বাহিনীর মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, তেল আবিব ও ওয়াশিংটন একে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের “টার্গেটেড কিলিং” কৌশলের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। পারস্য উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সংঘাত এখন আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



