― Advertisement ―

ট্রাম্পের আগেই বেইজিং যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধী নেত্রী; উত্তপ্ত তাইওয়ান প্রণালী

তাইওয়ানের রাজনীতি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে। আগামী এপ্রিলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারওম্যান চেং লি-উন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে মাসে প্রস্তাবিত চীন সফরের ঠিক এক মাস আগেই এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) কেএমটি-র পক্ষ থেকে এই সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাবেক এই আইনপ্রণেতা গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন, যা তাঁর পূর্বসূরি এরিক চুর নীতির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

চীন বর্তমান তাইওয়ানিজ প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সরকারকে “বিচ্ছিন্নতাবাদী” হিসেবে গণ্য করে তাদের সঙ্গে সব ধরনের সংলাপ বন্ধ রাখলেও কেএমটি নেতাদের জন্য বেইজিংয়ের দরজা সব সময়ই খোলা। চেং লি-উন জানিয়েছেন, তিনি তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি বজায় রাখা এবং দুই পক্ষের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চেং বেইজিং, সাংহাই এবং জিয়াংসু প্রদেশ সফর করবেন। তবে রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার কারণে শি জিনপিংকে এখানে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ নয়, বরং ‘কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে সম্বোধন করা হচ্ছে।

এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। লাই চিং-তের সরকার যখন পার্লামেন্টে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের চেষ্টা করছে, তখন বিরোধী দল কেএমটি এর বিরোধিতা করে বিস্তারিত তথ্য দাবি করছে। ওয়াশিংটন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পক্ষে থাকলেও কেএমটি-র এই চীন সফর মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য মে মাসের সফরটি মূলত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধের পর থেকে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি। ২০১৫ সালে মা ইং-জিউ এবং শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর চেং লি-উনের এই সফরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে যখন তাইওয়ানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলের এই বেইজিং যাত্রা তাইওয়ান প্রণালীর ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় নিতে পারে।