― Advertisement ―

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন আলবেনিজ: উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভয়াবহ সংঘাতের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই যুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্য কী এবং ওয়াশিংটন ঠিক কী অর্জন করতে চাইছে, সে বিষয়ে ক্যানবেরা আরও নিশ্চিত হতে চায়। আলবেনিজের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে।

আলবেনিজ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা দেখতে চায়। যুদ্ধের বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি এই লড়াইয়ের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দেখতে চাই এবং আমি চাই সংঘাতের তীব্রতা দ্রুত কমিয়ে আনা হোক।” ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন না তুললেও, আলবেনিজের এই বক্তব্যে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অস্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনি ইরানের নেতৃত্বে আসার পর থেকে সংঘাতের যে নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে, তা সিডনিকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধ রক্ষা করতে দেশটিতে প্রতিরক্ষা সহায়তায় বিমান পাঠালেও, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর মার্কিন প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আলবেনিজ। অস্ট্রেলিয়ার মতে, নৌবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। সিডনি মনে করে, সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক পন্থায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে শ্রেয়।

এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেয়নি, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিশ্ব অর্থনীতিকেও খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোকে তাদের পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। আলবেনিজের এই ‘স্পষ্টতা’ চাওয়ার বিষয়টি মূলত ওয়াশিংটনের ওপর একটি প্রচ্ছন্ন চাপ, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিবর্তে একটি টেকসই সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করে।