আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আরও এক ধাপ কঠোর হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সোমবার (২৩ মার্চ) এক জরুরি নির্দেশনায় তিনি সরকারি সকল যানবাহনে উচ্চমানের পরিশোধিত তেল বা ‘হাই-অকটেন’ ব্যবহারের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বিলাসবহুল জ্বালানির খরচ আর রাষ্ট্র বহন করবে না। যদি কোনো কর্মকর্তা এই নিয়ম অমান্য করেন, তবে সেই জ্বালানির দাম তাঁর নিজের পকেট থেকে মেটাতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পাকিস্তানে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হাই-অকটেনের ওপর লিটারপ্রতি সারচার্জ ২০০ রুপি বাড়ানো হয়। এর ঠিক পরদিনই সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এই কৃচ্ছ্রসাধনের খড়্গ নেমে এল। শাহবাজ শরিফ বলেন, “বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সাশ্রয় করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে গণপরিবহন বা বিমানের জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
ইসলামাবাদ মনে করছে, এই একটি সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ কোটি রুপি সাশ্রয় হবে, যা সরাসরি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা সম্ভব। মূলত ধনীদের ওপর করের চাপ বাড়িয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে শাহবাজ সরকার। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে থেকেই পাকিস্তানে চার দিনের কর্মসপ্তাহ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানোর মতো সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। এছাড়া অনেক সরকারি কর্মীকে বর্তমানে ‘হোম-অফিস’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবা খাত বাদে বাকি সব ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয়ে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



