ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বাড়ার সাথে সাথেই তীব্র হয়েছে গণপরিবহন সংকট। যদিও মহাসড়ক এখন পর্যন্ত যানজটমুক্ত, তবে বাসের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে ট্রাক ও পিকআপের খোলা ডকে চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন। তপ্ত রোদ আর ধুলাবালির মাঝে এই ঈদযাত্রা যেন এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড ৩৫ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। মহাসড়কের এলেঙ্গা ও রাবনা বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে তিল ধারণের জায়গা নেই এবং সুযোগ বুঝে পরিবহন শ্রমিকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন। টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জের স্বাভাবিক ১০০ টাকার ভাড়া এখন চাওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিস জানিয়েছে, যানজট এড়াতে টোল প্লাজায় ১৮টি বুথ সচল রাখা হয়েছে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেতু পূর্ব ও পশ্চিম অংশে সার্বক্ষণিক নজরদারি চললেও যানবাহনের তীব্র চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অবকাঠামো। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসড়কে বড় কোনো জটলা নেই এবং যানবাহন চলাচলের গতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জানান, সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে ভোগান্তি কমাতে পর্যাপ্ত বাসের নিশ্চয়তা এবং খোলা ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।



