অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণের প্রস্তাব পাওয়ার পর নাটকীয়ভাবে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন ইরানি নারী ফুটবল দলের এক সদস্য। শুরুতে প্রস্তাব গ্রহণ করলেও শেষ মুহূর্তে তিনি নিজ দেশ ইরানে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে দলের অন্য দুই সদস্য—২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার মোহাদেসাহ জোলফি এবং সহায়ক কর্মী জোহরা সুলতান মোশকেহকার—অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেওয়া আশ্রয়ের আবেদন বহাল রেখেছেন। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় নারী এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচ চলাকালীন, যেখানে ইরানি খেলোয়াড়রা সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে অভিহিত করলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ জোলফি ও মোশকেহকারকে সিডনির একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। জানা গেছে, দলেরই এক সদস্য ইরানি দূতাবাসে তাঁদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার পর ফেডারেল পুলিশের সহায়তায় তাঁদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, যেসব খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার আবেদন করেননি, তাঁরা বর্তমানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়েছে, সেখান থেকেই তাঁদের তেহরানে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, খেলোয়াড়রা সুস্থ আছেন এবং তাঁরা সজ্ঞানেই দেশে ফিরতে চাইছেন। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্ট চলাকালেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, অস্ট্রেলীয় সরকার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান জানায়। কেউ যদি আশ্রয় নেওয়ার পর আবার নিজের সিদ্ধান্ত বদলে দেশে ফিরতে চায়, তবে তাকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ইরানিরা খেলোয়াড়দের বাসের সামনে বিক্ষোভ করে সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ছায়া এখন খেলার মাঠ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।



