― Advertisement ―

রাশিয়ার বিধ্বংসী হামলায় ধ্বংসস্তূপ ইউক্রেনের খারকিভ: শিশুসহ ১০ জন নিখোঁজ

শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার আগেই রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা গেছে। বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ (Kharkiv) এবং দিনিপ্রো (Dnipro) অঞ্চলে আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের এই নতুন দফার তীব্রতা পুরো ইউরোপীয় অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে খারকিভ অঞ্চলে। সেখানে একটি পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে ভবনটি প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকর্মীরা এ পর্যন্ত পাঁচজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছেন। খারকিভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনিগুবভ জানিয়েছেন, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ১০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে একটি শিশুও থাকতে পারে—এমন তথ্যে উদ্ধার অভিযানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাশিয়ার এই হামলার রেশ কেবল ইউক্রেন সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতিবেশী পোল্যান্ড তাদের সামরিক বিমান আকাশে উড়িয়েছে। পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড এক বার্তায় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য কোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর থেকে পোলিশ বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

খারকিভের চুহুইভ (Chuhuiv) শহরেও রুশ ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। মেয়র গ্যালিনা মিনায়েভা জানিয়েছেন, ড্রোনের আঘাতে একটি বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের অধিকাংশ শহরেই বিমান হামলার সতর্কতা জারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মস্কোর এই ধারাবাহিক আক্রমণ প্রমাণ করছে যে, সংঘাত প্রশমনের কোনো লক্ষণ নেই, বরং বসন্তের শুরুতে রাশিয়ার এই সামরিক তৎপরতা এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।