― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়া ১৬৫ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনল সরকার

ভাগ্য বদলের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ও সেখানে আটকে পড়া ১৬৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (০৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁদের বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত হওয়া ১৪৩ জন এবং স্থানীয়ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করা আরও ২২ জন অসুস্থ ও অসহায় নাগরিক এই দলে রয়েছেন। আজ সকাল সাড়ে পাঁচটায় বুরাক এয়ারের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

প্রত্যাবাসিত এই বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁরা অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন। সমুদ্রযাত্রার চরম ঝুঁকি আর ডিটেনশন সেন্টারের অন্ধকার জীবন পেরিয়ে দেশে ফিরতে পারা এই নাগরিকদের চোখেমুখে এখন স্বস্তির চেয়েও বেশি ছিল স্বজনদের কাছে ফেরার আকুলতা।

বিমানবন্ধরে অবতরণের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফিরে আসা নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। আইওএম-এর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রত্যেককে জরুরি চিকিৎসা সেবা, খাদ্যসামগ্রী এবং যাতায়াত খরচ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের থাকার জায়গা নেই, তাঁদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাঁদের সেই দুর্বিষহ দিনগুলোর বর্ণনা দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তাঁরা নিজেদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা সমাজের সবার কাছে তুলে ধরেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ পাচারকারীদের খপ্পরে না পড়ে।

লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবপাচার রোধে এবং অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। লিবিয়ায় আটকে পড়া প্রতিটি নাগরিককে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।