― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ঝালকাঠিতে তুচ্ছ বিরোধে নৃশংয় হত্যাকাণ্ড: অভিযুক্তরা পলাতক

ঝালকাঠির নলছিটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের কলহ শেষ পর্যন্ত এক যুবকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নলছিটি পৌরসভার শংকরপাশা পোলেরহাট এলাকায় প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলায় মিলন হাওলাদার (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। নিহত মিলন ওই এলাকার সেলিম হাওলাদারের সন্তান। স্থানীয় সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী বেল্লাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে মিলনের পরিবারের চরম বিরোধ চলছিল, যা এর আগেও একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন বেল্লাল হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মিলন সাময়িকভাবে আত্মগোপনে চলে যান। তবে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি যখন স্থানীয় পোলেরহাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা তার ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেল্লাল, শাহ আলম ও রিপনসহ বেশ কয়েকজন মিলনের পথরোধ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় মিলন পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাকে ধরে ফেলে এবং পুনরায় নির্বিচারে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আক্রমণকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা এবং স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মিলনের মৃত্যু হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নলছিটি থানা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। একটি সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরোধ কীভাবে একটি প্রাণঘাতী দ্বন্দ্বে রূপ নিল, তা নিয়ে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।