বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই সাবেক উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমান পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই দুই ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানান। দলটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোকে ‘জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তাঁর বক্তব্যে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে ‘রাজসাক্ষীর স্বীকারোক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শকে পাশ কাটিয়ে অন্য একটি পক্ষকে মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব খাটানো হয়েছে। জামায়াত নেতার ভাষ্যমতে, মাঠ পর্যায়ে ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়োগের পেছনে একটি বিশেষ ‘ডিজাইন’ কাজ করেছে। এর মাধ্যমে আদতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে কৌশলে অবদমিত করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অপর সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। জামায়াত তাঁকে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের হোতা’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছে যে, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান ক্ষুণ্ণ করে একটি বিশেষ দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, নিরপেক্ষতার শপথ নিয়ে কেন তিনি পরবর্তীতে একটি দলীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। জামায়াত মনে করে, নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা রাখার পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে এই পদ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে, জামায়াতে ইসলামী এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করে জাতিকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করেছে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানে স্বচ্ছতার বিকল্প নেই বলে জামায়াত নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।



