― Advertisement ―

স্থায়ী শান্তির জন্য আফগান তালেবানের প্রতি সন্ত্রাসবাদ ত্যাগের আহ্বান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এখন কার্যত এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সরাসরি রণক্ষেত্র সংলগ্ন দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানা এলাকা সফর করে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোরতম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা বা হুমকি এখন থেকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর-এর এক বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।

আসিম মুনিরের এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সীমান্তজুড়ে আফগান তালেবানের কথিত হামলার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ (Operation Ghazab lil Haq) নামে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, সীমান্তের ৫৩টি পয়েন্টে একযোগে হামলার অভিযোগ ওঠার পরই তারা এই পাল্টা আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়। ওয়ানা সফরে সেনাপ্রধান মূলত এই চলমান অভিযানের অগ্রগতি এবং সেনাবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি সচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির শর্ত হিসেবে আফগান তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আফগান মাটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ততক্ষণ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আসা অসম্ভব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কতটা সফল হচ্ছে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কী কী নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও তাঁকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। আসিম মুনিরের এই কঠোর মনোভাব মূলত কাবুলের বর্তমান শাসকদের প্রতি এক সরাসরি বার্তা যে, পাকিস্তান আর নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ কেবল একটি সীমান্ত রক্ষী অভিযান নয়, বরং এটি আফগান তালেবানের প্রতি পাকিস্তানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সেনাপ্রধানের এই সরাসরি রণক্ষেত্র পরিদর্শন এবং ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান প্রয়োজনে সীমান্ত পেরিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতেও দ্বিধা করবে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অংশে শান্তি ফেরাতে হলে এখন কেবল আলোচনার টেবিল নয়, বরং সীমান্তের ওপার থেকে আসা আগ্নেয়াস্ত্রের গর্জন বন্ধ হওয়া জরুরি।