― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

‘ফুল ট্যাঙ্ক’ করার হিড়িক: ফুরিয়ে আসছে মজুত, রাজধানীর পাম্পগুলোতে হাহাকার

রাজধানীর আসাদগেট থেকে বিজয় সরণি, কিংবা মিরপুর থেকে কালশী—আজকের সকালটা ছিল চিরচেনা ঢাকা থেকে একটু আলাদা। পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি কেবল প্রধান সড়কেই আছড়ে পড়েনি, বরং তৈরি করেছে এক অজানা আতঙ্ক। তেলের লরি কখন আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই পকেট খালি থাকলেও সঞ্চয়টুকু খরচ করে সবাই চাইছেন গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে যানবাহনের অন্তহীন অপেক্ষা, যেখানে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে দূরপাল্লার বাসের চালকরাও শামিল হয়েছেন।

মিরপুর-২ নম্বরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সালাম মিয়ার গল্পটা অনেকের মতোই। পেশায় রাইড শেয়ারিং চালক সালাম সাধারণত দিনে ২০০-৩০০ টাকার তেল নিতেন। কিন্তু আজ জমানো সব টাকা এক করে ১,০৬০ টাকায় ট্যাঙ্ক ফুল করেছেন। তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ, “তেল না পেলে বাইক বন্ধ থাকবে, আর বাইক বন্ধ থাকলে আমার সংসার চলবে কী করে?” এই জীবন-মরণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজ হাজারো চালক রাজপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করছেন। অনেক জায়গায় ড্রাম বা বোতলে ডিজেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র নির্মাণ শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আসাদগেটসংলগ্ন তালুকদার ফিলিং স্টেশনে ভিড় সামলাতে শেষ পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে প্রবেশমুখ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। পাম্পের ক্যাশিয়ার ইমরান আহমেদ জানান, দৈনিক ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি আসলেও এখন ডিপো থেকে সরবরাহ মিলছে না। মজুত যখন তলানিতে ঠেকেছে, তখন বিক্রি বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। বিজয় সরণির ট্রাস্ট রিফুয়েলিং স্টেশনে লাইনের শেষ প্রান্ত খুঁজতে গেলে দেখা যায়, সারির দৈর্ঘ্য ৩৫০ মিটার ছাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের বিপরীতে গিয়ে ঠেকেছে। সেখানে প্রায় একশটি গাড়ি অসহায়ের মতো অপেক্ষায় রয়েছে।

কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল খাঁ খাঁ মরুভূমির মতো অবস্থা; সব ধরনের জ্বালানি ও এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ। পাম্পের কর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাতেই মজুত শেষ হয়ে গেছে। সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট এবং আমদানির ধীরগতি সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের পাম্পকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। এই অস্থিরতা নিরসনে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা এখন সময়ের দাবি।