― Advertisement ―

পারমাণবিক নৌবাহিনীর পথে পিয়ংইয়ং; ‘চো হিয়ন’ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

বিশ্বের নজর যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন সংঘাতের দিকে, ঠিক তখনই দূরপ্রাচ্যে নিজের সামরিক শক্তির জানান দিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) উত্তর কোরিয়ার অত্যাধুনিক ও বিশালাকার ৫০০০ টন ওজনের ডেস্ট্রয়ার ‘চো হিয়ন’ থেকে একটি ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। কিম জং উন নিজে নামপো জাহাজঘাঁটিতে উপস্থিত থেকে এই পরীক্ষা তদারকি করেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, সমুদ্র থেকে স্থলভাগে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পিয়ংইয়ংয়ের নৌ-শক্তির এক নতুন মাইলফলক।

এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কিম জং উন তাঁর দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ‘নতুন প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে ঘোষণা করেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কাজ ‘সন্তোষজনক’ গতিতে এগিয়ে চলছে। কিমের এই বক্তব্য সিউল এবং ওয়াশিংটনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ‘কৌশলগত’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। কিম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পানির নিচে এবং উপর—উভয় দিক থেকেই আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনে তাঁর দেশ গত অর্ধশতাব্দীর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

তবে এই সাফল্যের পথটি উত্তর কোরিয়ার জন্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে চংজিন শিপইয়ার্ডে একই শ্রেণির একটি ডেস্ট্রয়ার পানিতে নামানোর সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিশাল জাহাজটি উল্টে গিয়ে কাঠামোগতভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় কিম জং উন এই ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ‘চো হিয়ন’ ডেস্ট্রয়ারের এই সফল মিশন পিয়ংইয়ংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তাই দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার চলমান ছায়াযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্র ভাণ্ডারকে আরও আধুনিক করার চেষ্টা করছে। একদিকে কিম যেমন আরও উন্নত ডেস্ট্রয়ার তৈরির নির্দেশ দিচ্ছেন, অন্যদিকে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। নামপো শিপইয়ার্ডে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং উন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে নৌ-বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেবল একটি মহড়া নয়, বরং এটি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরক্ষা বলয়কে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক সুকৌশলী পদক্ষেপ।