দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নারী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় নতুন পথ দেখাতে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব মুসলিম উইমেন ইন সায়েন্স’ (ISMWS)। রোববার (২ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক চ্যাপ্টারের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ববি’র নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নারী বিজ্ঞানীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার সুযোগ পেলেন, যা তাঁদের উচ্চতর গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের পথ প্রশস্ত করবে।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন ISMWS-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডা. সুলতানা এন নাহার। তিনি তাঁর বক্তব্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন। ডা. নাহার বলেন, “বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ছাড়া কোনো প্রগতি সম্ভব নয়।” তিনি মুসলিম বিশ্বের নারীদের বিজ্ঞানে অবদানের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন যে, পোশাক বা বাহ্যিক আবরণ কখনোই বিজ্ঞান চর্চার পথে বাধা হতে পারে না। যদি ইচ্ছা শক্তি এবং দৃঢ় সংকল্প থাকে, তবে গবেষণার যেকোনো শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরি গবেষণার গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা একমত হন যে, এই প্ল্যাটফর্মটি ববি’র শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল একটি স্থানীয় সংগঠন নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবেশদ্বার। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞানীদের সাথে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রহিমা নাসরিন তাঁর বক্তব্যে এই চ্যাপ্টারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই চ্যাপ্টারটি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি এখন বরিশালের মাটিতে পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন তথ্যের সাথে যুক্ত হতে পারবে। বিজ্ঞানে মুসলিম নারীদের মেধা ও সংকল্পের স্বাক্ষর বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই চ্যাপ্টারের মূল লক্ষ্য।



