ঝালকাঠির রাজাপুরে মাদকের বিষ ছড়ানো বন্ধে পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যে ধরা পড়েছে দুই তরুণ মাদক কারবারি। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গভীর রাতে উপজেলার বাঘরী বাজার এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ১৮ বছর বয়সী মো. জায়েদ জোহা খান এবং ২০ বছরের তরুণ মো. ইমন হাসান। তবে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন ৫৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মাদক কারবারি সমির গাজি। রাজাপুর থানা পুলিশের এই সাফল্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও পলাতক আসামিকে নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা রয়ে গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদে তারা জানতে পারেন বাঘরী এলাকার আব্দুর রহমান সড়কের একটি গলিতে মাদকের কেনাবেচা চলছে। খবর পাওয়া মাত্রই রাজাপুর থানার একটি চৌকস দল সেখানে মোবাইল ডিউটিরত অবস্থায় হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি দেখে পালানোর চেষ্টা করলেও ধাওয়া দিয়ে দুই তরুণকে আটকে ফেলে পুলিশ। তল্লাশিকালে জায়েদ জোহা খানের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, ইমন হাসানের কাছ থেকে পাওয়া যায় কাগজে মোড়ানো গাঁজা। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের বাজারমূল্য খুব বেশি না হলেও, খুচরা পর্যায়ে এগুলো যেভাবে তরুণদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, তা সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুই তরুণ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তারা জানান, পলাতক সমির গাজির ছত্রছায়ায় এবং প্রত্যক্ষ সহায়তায় তারা পাইকারি দামে মাদক সংগ্রহ করে রাজাপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদকের এই চক্রটি মূলত এলাকার তরুণ সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সমির গাজি গ্রেপ্তার হলে এই অঞ্চলের বড় একটি মাদক সিন্ডিকেট ধরা পড়বে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে রাজাপুরসহ আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



