দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছেন এর সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তি। দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর হারুন-অর-রশিদ এবং প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। শিক্ষা প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক নিয়োগে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান করছে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে এই দুই সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করছে সংস্থাটি। তদন্ত চলাকালীন তারা দেশত্যাগ করে বিচারের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন—দুদকের এমন আশঙ্কার কথা শুনে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ তাঁদের পাসপোর্ট জব্দসহ বিদেশ গমনে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই খবরটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যাপীঠের শীর্ষ পদে আসীন থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। দুদকের এই পদক্ষেপের ফলে অভিযুক্তরা দেশে থেকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে বাধ্য হবেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, তাঁদের বিদেশ গমনে বাধা দেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হওয়া বা সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এখন তদন্তের জাল আরও সংকুচিত হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



