পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই উন্নত চিকিৎসার জন্য আবারও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ তাঁর চোখের চিকিৎসার দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকলেও বার্ধক্যজনিত দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসপাতালে আনা হয়। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, চিকিৎসার পর ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
পিআইএমএস-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. ইমরান সিকান্দার এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইমরান খানকে মূলত ‘অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশন’-এর দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের জন্য আনা হয়েছিল। এর আগে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তাঁকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাস বিরতি দিয়ে আজ দ্বিতীয় ধাপের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। আল-শিফা আই ট্রাস্টের বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকদের একটি দল মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ডে-কেয়ার অপারেশন হিসেবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ইনজেকশন দেওয়ার আগে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন চিকিৎসকদের একটি উচ্চপর্যায়ের বোর্ড। কার্ডিওলজিস্ট ও ফিজিশিয়ানদের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড তাঁর ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি রিপোর্ট স্বাভাবিক পাওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য ‘ফিট’ ঘোষণা করেন। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইমরান খানের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়েই চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল এবং অপারেশন থিয়েটারে সুরক্ষার সর্বোচ্চ প্রটোকল বজায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ক্লিনিক্যালি স্থিতিশীল এবং তাঁর এই নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি বয়ে এনেছে। পাকিস্তানের রাজনীতির এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্য নিয়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে বরাবরই ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করে।



