― Advertisement ―

রমজানে পশ্চিম তীরের নাবলুসে মসজিদে ইসরায়েলি দখলদারদের অগ্নিসংযোগ ও অবমাননাকর গ্রাফিতি

পবিত্র রমজানের স্নিগ্ধ ভোরে যখন ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা স্রষ্টার ইবাদতে মশগুল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পশ্চিম তীরের নাবলুসে এক ভয়াবহ ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদাররা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরে নাবলুসের সাররা ও তাল শহরের সংযোগস্থলে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং দেওয়ালে অবমাননাকর স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা কেবল একটি উপাসনালয়ে হামলা নয়, বরং রমজানের পবিত্রতাকে পদদলিত করে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে চালানো এক সুপরিকল্পিত উসকানি।

স্থানীয় বাসিন্দা মুনির রামদানের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই আতঙ্কজনক মুহূর্তের কথা। তিনি জানান, ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা দেখেন মসজিদের প্রবেশপথে আগুনের কালো ধোঁয়া আর ভাঙা কাঁচ পড়ে আছে। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি স্প্রে পেইন্ট ও জ্বালানি নিয়ে মসজিদে হামলা চালিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। তারা মসজিদের দেওয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর গ্রাফিতি এবং ‘প্রাইস ট্যাগ’ বা প্রতিশোধের স্লোগান লিখে রেখে গেছে। ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দটি মূলত উগ্র দখলদাররা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বা সম্পত্তি দখলের সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

গাজায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতার ছায়া এখন পশ্চিম তীরেও দীর্ঘতর হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে দখলদার ও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতায় এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। রমজানে ফিলিস্তিনিদের মানসিকভাবে দুর্বল করতেই এই ধরনের ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব হামলার পেছনে কাজ করছে এক গভীর ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’, যেখানে দখলদাররা অপরাধ করেও আইনের আওতায় আসছে না। উপাসনালয়ে এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল হলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি নিত্যদিনের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।