― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

কসবা-আখাউড়ায় নবীন-প্রবীণের দ্বৈরথ; বিএনপির কোন্দলে কি লাভ হবে জামায়াতের?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। কসবা ও আখাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মূলত লড়াই হচ্ছে বিএনপির প্রবীণ প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থীর মধ্যে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও এবার দলটির ভেতরে প্রকট কোন্দল ও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী ড. মুশফিকুর রহমানকে বিএনপি মনোনয়ন দেওয়ায় দলের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী তাদের একক প্রার্থী আতাউর রহমান সরকারকে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।

বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, ড. মুশফিকুর রহমান শারীরিক ও মানসিকভাবে জামায়াতের তরুণ ও চটপটে প্রার্থীর সাথে পাল্লা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় এলাকার বাইরে থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারীরা মুশফিকের মনোনয়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভও করেছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত মুশফিককেই রাখা হয়েছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে দলের একটি বড় অংশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই ‘নীরবতা’ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা উন্নয়নের গালভরা বুলি দিলেও কসবা-আখাউড়া সীমান্তের মূল সমস্যা মাদক ও চোরাচালান। ভোটারদের অভিযোগ, গত দেড় দশকে এলাকার রাস্তাঘাটের তেমন উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে আসা ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা এবার যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিতে চান, যারা কেবল আশ্বাস নয় বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান দেবেন। বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি প্রচারণার পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের অস্তিত্বও টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির ঘরের কোন্দল জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’র পালে হাওয়া দেয় কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।