প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা সরকারকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে তেলের সরবরাহ বন্ধের এক কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছেন। ফ্লোরিডা সফরের পথে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তার প্রশাসন কিউবার নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এই আলোচনার সমান্তরালে তিনি দ্বীপরাষ্ট্রটির জ্বালানি লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে আসা তেল বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কিউবার অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, তেলের এই তীব্র সংকটই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প একটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা মূলত কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর চড়া শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য মেক্সিকো, যারা কিউবার অন্যতম বড় জ্বালানি জোগানদাতা। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম সতর্ক করেছেন যে, এই নীতি দ্বীপটিতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প একে দেখছেন একটি সফল রাজনৈতিক চাল হিসেবে। তার মতে, কিউবার সরকার পতনের মুখে এবং তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘ডিল’ করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই পদক্ষেপকে ‘ফ্যাসিবাদী ও অপরাধমূলক’ বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে দেশটির অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর মেক্সিকোই ছিল কিউবার শেষ ভরসা। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে সেই পথও রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবায় এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির হাহাকার চলছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, তেলের এই তীব্র অবরোধ কিউবাকে কোনো নতুন চুক্তির দিকে নিয়ে যায় নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়।



