যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী এলেক্স প্রেটির মৃত্যুর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ‘সিভিল রাইটস’ বা নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই ঘোষণা দেন। গত ২৪ জানুয়ারি এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন প্রেটি, যা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, বর্তমানে এফবিআই এই মামলার প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করছে। বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে খতিয়ে দেখবে যে, কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তবে ব্ল্যাঞ্চ উল্লেখ করেছেন যে, এটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এলেক্স প্রেটি যখন বিক্ষোভের মঞ্চে ছিলেন, তখন তার হাতে কেবল একটি মোবাইল ফোন ছিল। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আগে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের দাবি করা হলেও ভিডিওতে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রেটিকে মাটিতে ফেলে গুলি করার এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়। মিনেসোটার স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে আলাদাভাবে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে।
বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, তদন্তে যদি আইনবহির্ভূত বলপ্রয়োগ বা অধিকার লঙ্ঘনের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে। যদিও মার্কিন আইনে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণের শর্তগুলো অত্যন্ত জটিল। এই তদন্তের ঘোষণা ঘটনার সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরলেও, চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগে কাউকে আইনত দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।



