আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। সরকার আগে থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার যখন সর্বশক্তি নিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখনই নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না।
ইসি’র পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালান, তবে সেটি হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ইসি’র পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে।
ইসির এই পদক্ষেপে সরকারের উচ্চমহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর মিলছে। সাংবিধানিক সংস্থাটির এমন আকস্মিক পদক্ষেপে অনেকটাই হকচকিয়ে গেছেন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে ইসি বলেছে, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ছাড়াও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন।
নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিষয়টি অবহিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি অনুলিপি পাঠানো হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপিসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে নানা ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার শুরু হয়। শুরুতে একাধিক আইনজ্ঞসহ গণমাধ্যমে সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা এবং আইনগত বাধার কথা আলোচনায় এলেও তা আমলে নেয়নি সরকার।
উল্টো সরকারের তরফে আইনজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বারবার বলেছেন, ‘সরকারের হ্যাঁ ভোটের প্রচার চালাতে আইনগত কোনো বাধা নেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। আইনজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।’
শুধু তাই নয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জাতীর উদ্দ্যেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, সেখানেও তিনি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তার এই ভাষণের পর সরকারি কর্মকর্তারা তাদের কর্মচারিদের নিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় নেমে পড়ে।
প্রচার শুরুর এত দিন পরে কেন ইসি এই চিঠি দিলো— এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই চিঠি দিয়েছেন তারা।
তবে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাসউদ বলেছেন, সরকারের উপদেষ্টারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে ও প্রচার চালাতে পারবেন। কারণ, তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি নয়।
ইসির নির্দেশনা জারির পর সরকারের একাধিক উপদেষ্টা এ বিষয়ে বলেছেন, তারা ইসির সঙ্গে আলোচনা করবেন। এছাড়া ইসি যে আইনের বরাতে নির্দেশনাটি জারি করেছেন, প্রয়োজনে ওই আইন সংশোধন করার চিন্তা ভাবনাও রয়েছে সরকারের।



