দারিদ্র্য মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য দারিদ্র্য মোকাবিলাই এখন প্রধান অন্তরায়।
দারিদ্র্য শুধু টাকার অভাব নয়। এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। সমাজের একটি বড় অংশ যখন দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে পরে, তখন তার প্রভাবে পুরো জাতির অগ্রগতিও বাধাগ্রস্থ হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:দারিদ্র অপুষ্টি, অসুস্থতা, মানসিক চাপ ও হতাশার কারন। মাঝে মধ্যে এর প্রভাবে চিকিৎসা সেবা পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে ওঠে ।
দারিদ্র্য কেবল অর্থের অভাব নয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও অকল্পনীয় প্রভাব বিস্তার করে। অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে কাজে যাওয়ার ফলে তাদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত হয়, দক্ষতা ও ভালো চাকরির সুযোগ কমে যায়।
যেমন ধরা যাক, ১১ বছরের একটি বাচ্চা লেখাপড়া বাদ দিয়ে গাড়ির হেলপার এর দায়িত্ব পালন করছে। বাচ্চাটির কষ্ট দেখে আমার নিজের বাচ্চার কথা মনে পড়ে গেল।
বাচ্চাটি বলল “ছেলে মানুষের অনেক কষ্ট, মাকে দেখা লাগে তারপরে বউকে এর পরে একসময় কবরে যেতে হয়। এত কষ্ট আর ভালো লাগে না।”
বাচ্চাটি আরও বলল ” আমার বাবা নেই, আমি ছয় বছর অপেক্ষা করছি কবে আমি একজন ড্রাইভার হতে পারবো।” হাতে তার ফোসকা পড়ে গেছে দেখাচ্ছিল। এই দারিদ্রতা আমাদের শিশুদের অবস্থান কোথায় নিয়ে দাঁড় করেছে?
বেকারত্ব ও স্বল্প আয়ের চাকরিতে আটকে থাকা।
অপরাধ, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি।
অর্থনৈতিক প্রভাবও বেশ বড়। দরিদ্ররা বেকারত্ব ও কম আয়ের চাকরিতে আটকে থাকায় ঋণের বোঝা বাড়ে, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা হ্রাস পায়।
জীবনযাত্রার মানও হয় ক্ষতিগ্রস্ত। অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান, নিরাপদ পানির অভাব ও স্যানিটেশন সংকট যেন নিত্য নৈমিত্তিক অভিশাপ।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য হলো, দারিদ্র্য দূর করা শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি দেশের টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য উপাদান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ই পারে দারিদ্র্যের এই চক্র ভাঙতে।
দারিদ্র্য শুধু ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অগ্রগতিকেও উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাবিত করে। তাই এখনই সময় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে সমাজকে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তি দেয়ার।
আইরিন সুলতানা, লেখক ও সাংবাদিক



