পাকিস্তানের করাচিতে ঐতিহাসিক গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতের এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও আটটি মরদেহ উদ্ধারের পর রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। করাচির মেয়র মুর্তজা ওয়াহাব জানিয়েছেন, এখনো ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এম এ জিন্নাহ রোডের ওপর অবস্থিত এই বহুতল বাণিজ্যিক ভবনটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি দোকান ছিল। উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতায় ভবনের স্তম্ভগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় সম্মুখ ও পেছনের অংশ ধসে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর কামরান তেসোরি এই ঘটনাকে ‘জাতীয় ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে আগুনের কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও, ভবনের দাহ্য পদার্থের মজুদ আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে।
বিগত কয়েক বছরে করাচির বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্তানের নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে। সরকারি তথ্যমতে, শহরের ২৬৬টি প্রধান বাণিজ্যিক ভবনের মধ্যে মাত্র ৬টিতে প্রমিত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। গুল প্লাজার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ২০১২ সালের বালদিয়া টাউন ট্র্যাজেডির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা করাচির অবকাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।



