বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকে চলমান ব্যাপক অভিবাসীবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এই ভিসা স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত এলো।
বাংলাদেশ ছাড়াও সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেন সহ বিশ্বের ৭৫টি দেশ এই স্থগিতাদেশের মধ্যে রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রাথমিক ১৯টি দেশের অভিবাসীদের জন্য আশ্রয় আবেদন, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া এবং গ্রিন কার্ড আবেদনও স্থগিত রাখা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা কল্যাণমূলক ও সরকারি সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে সম্পদ লুফে নিতে চায় তাদের পদ্ধতিগত ‘অপব্যবহারের ইতি’ টানতে চায় প্রশাসন।
গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউজের কাছে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ দাবি করেছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি মেমো তাদের হাতে এসেছে। যাতে দেখা যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত ভিসা স্ক্রিনিং ও যাচাই পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হয়, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ততক্ষণ অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও পর্যটক ভিসার মতো ক্যাটাগরিগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে নতুন যাচাই-বাছাই নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালনের জন্য বলা হয়েছিল।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছিল, সরকারি সহায়তা যেমন— স্বাস্থ্য, ইংরেজি ভাষা শেখা, অর্থনৈতিক সুবিধা এমনকি যাদের দীর্ঘকালীন চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন বলে মনে হয় তাদের ভিসা আবেদন যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়।



