আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাশিয়া। বুধবার রাতে বেলজিয়ামে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, উচ্চ অক্ষাংশে ন্যাটোর এই তৎপরতা সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। মূলত খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘দখলদারি’ মন্তব্যের পর থেকেই মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
রাশিয়ার অভিযোগ, ন্যাটো মস্কো ও বেইজিংয়ের তথাকথিত হুমকির দোহাই দিয়ে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা আদতে একটি সাজানো অজুহাত। ক্রেমলিন মনে করে, ন্যাটোর এই উসকানিমূলক পদক্ষেপ আর্কটিক অঞ্চলের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। উল্লেখ্য যে, গ্রিনল্যান্ড শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই নয়, বরং এর ভূগর্ভে থাকা বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদের জন্য বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার যে আগ্রহ দেখিয়েছেন, রাশিয়া তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। রুশ কূটনীতিকদের মতে, ন্যাটোর এই সামরিক সম্প্রসারণবাদ উত্তর মেরু অঞ্চলে একটি নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিরোধ কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ভবিষ্যতের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদী লড়াই।



