― Advertisement ―

ফ্রন্টলাইনে ড্রোন ও রকেট হামলা: যুদ্ধের মুখে পূর্ব আলেপ্পো

সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনী এবং কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার উভয় পক্ষ একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে ভারী গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘর্ষের ফলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার স্পর্শকাতর ফ্রন্টলাইনগুলোতে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত এসডিএফ যোদ্ধাদের জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থাই এই উত্তেজনার প্রধান কারণ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিরীয় সেনাবাহিনী আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলীয় একটি এলাকাকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসডিএফ-এর দাবি, সরকারি সেনারা দেইর হাফের জেলা এবং এর দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামগুলোতে রকেট ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালিয়েছে। পাল্টা অভিযোগে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, কুর্দি যোদ্ধারাও হোমেইমা গ্রামে ড্রোন হামলা চালিয়ে উসকানি দিয়েছে। গত সপ্তাহে আলেপ্পো শহরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা এই মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

দামেস্ক প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে, এসডিএফ মাসকানা ও দেইর হাফের এলাকায় বিপুল পরিমাণ সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে আলেপ্পো শহরে ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী কুর্দি বাহিনীকে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব তীরে সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে এসডিএফ-কে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তুরস্ক-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে, মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করায় কুর্দিরা চাপে পড়েছে। এসডিএফ দীর্ঘদিন ধরে আইএস-বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে তারা সন্দিহান। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দামেস্কের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে।