ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘বিপজ্জনক ও ব্যাখ্যাতীত উত্তেজনা বৃদ্ধি’র অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শান্তি আলোচনার পথে এগোতে চাইছে।
সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এবং রাশিয়া ক্রমাগত জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করছে।
তিনি বিশেষভাবে সমালোচনা করেন রাশিয়ার সাম্প্রতিক পারমাণবিক সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি গত সপ্তাহে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি উৎক্ষেপণ করা হয়, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর জন্য স্পষ্ট হুমকি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর শত শত ড্রোন ও ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের অনুরোধেই এ ঘটনার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়।
এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইউক্রেন ও তার মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানোর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের দাবি করছে। একই সঙ্গে মস্কো ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও নতুন করে শীতলতা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর আটলান্টিকে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনায় রাশিয়ার ক্ষোভের পর।
ইউরোপীয় নেতারা ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ট্যামি ব্রুস বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তির প্রতি অতুলনীয় অঙ্গীকারের কারণে যখন আশার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন উভয় পক্ষেরই উত্তেজনা কমানোর পথ খোঁজা উচিত। কিন্তু রাশিয়ার এই পদক্ষেপ যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ করে তুলছে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় এক বছর আগে রাশিয়াই নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানানো হয়। “শুধু কথায় নয়, কাজে তার প্রতিফলন দেখা গেলে ভালো হতো,” বলেন ব্রুস।
তবে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া অভিযোগ করেন, কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনই দায়ী। তার ভাষায়, “ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বাস্তবসম্মত আলোচনার শর্তে রাজি না হওয়া পর্যন্ত আমরা সামরিক পথেই সমস্যার সমাধান চালিয়ে যাব।”
এর জবাবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রি মেলনিক বলেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়া সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
“রাশিয়ার অর্থনীতি ধীরগতির, তেলের আয় কমছে। নিজেদের অজেয় হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা আসলে ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়,” বলেন তিনি।
সূত্র: এপি নিউজ



